মে-মাসে একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের পরিসংখ্যান: এবার অশনি-র আশঙ্কা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: আয়লা-ফণী-আম্ফান ও ইয়াসের দাপট দেখেছে বঙ্গ। সেই ঘূর্ণিঝড়গুলোর বেশিরভাগই মে মাসেই তাণ্ডব দেখিয়েছিল। আবার ২০২২সালের মে মাস। বিকেল থেকে সন্ধেবেলার মধ্যে আকাশ কালো করে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি এইসময় হতে দেখা যায়। সাধারণতভাবে এটির নাম-কালবৈশাখী ৷ মে মাস থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় জুড়েই ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয় ৷ অন্য সময়েও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে ৷
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন,পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গিয়েছে, মে মাসে বেশ কয়েকটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়েছে ৷ এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০০৯ সালে আয়লা-র তাণ্ডব। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূল এলাকায় তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল ৷ আয়লার প্রভাবে বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়। কয়েক লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়েছিলেন ৷ তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ কিমি ৷ পশ্চিমবঙ্গ সহ বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছিল ৷
আয়লার বিষাক্ত ঘা সামলাতে সামলাতে ২০১৮ সালে এল তিতলি। এটি অবশ্য মে মাসে হয়নি। এরপর ২০১৯ সালে আসে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এর সবচেয়ে প্রভাব পড়েছিল অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন এলাকায়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল, পূর্ব ভারতের বেশ কিছুটা অঞ্চল, বাংলাদেশ ও ভূটানে দাপট দেখা যায়। ফণীতে ব্যাপকভাবে ক্ষয়-ক্ষতি হয় ওড়িশায়।
ফণী ঘনীভূত হয়ে তার প্রভাব ছিল ৫ মে ২০১৯ পর্যন্ত ৷ ফণীর ভয়াবহতার পর ফের আসে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ৷ আম্ফান ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ৷ পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা-সহ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার ও ভূটানের মানুষেরা এর দাপট প্রত্যক্ষ করেছেন। ফের মে মাস। ২০২২সালের এই মাসে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে জোর চর্চা চলেছে। তার নাম অশনি ৷
মৌসম ভবন সূত্রে এই মুহূর্তে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও পূর্ব দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে শক্তি বাড়াবে এমনই আশঙ্কা। ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় তৎপরতা শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা সরকার। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নিয়ে ওড়িশা ও বাংলার জেলাগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। (ছবি: সংগৃহীত)

